amazon affiliate

প্রাথমিক ধারনা: অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট

এই লেখাটি কোন গাইডলাইন নয় । আমাকে নতুন কেউ যখন হুট করে এসে অ্যামাজন নিয়ে প্রশ্ন করেন তাদেরকে যেন এই লিংকটা ধরিয়ে দিতে পারি সেই জন্যই এই লেখা ।

অনেকেই ফেসবুকে এসে বলে অ্যামাজন নিয়ে সে বয়ান শুনতে চায় । এইটা কি জিনিস সে জানতে চায় বুঝতে চায় । আর উত্তরে আমরা কি বলি?

আমরা বলি আপনি গ্রুপের ডক গুলো ভালো করে পড়েন । বিভিন্ন ব্লগ পড়েন তাহলে অনেক কিছু জানতে পারবেন ।

২-১ দিন পরে আবার প্রশ্ন আসে, আমি পড়ে কিছুই বুঝতে পারিনাই । আসলে কোনটা থেকে কি শুরু করবো কি কি করতে হবে যদি স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন দিতেন…

আপনার এই ধরনের সমস্যা থাকলে নিচের এই বিরক্তিকর লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন । আমি বসে বসে কোডিং করেই অভ্যস্ত । ওইসব আমি ভালো লিখতে পারি । কাউকে কোন কিছু বুঝিয়ে লেখা বা ব্লগ লেখালেখি আমি পারি না । তারপরেও যা লিখেছি আপনি নিজ দায়িত্বে কষ্ট করে বুঝে নিলেই হবে । আপাতত সংক্ষেপে বলছি । এই লেখা পড়ার পরেও যদি মনে করেন যে আপনি এইটা নিয়ে আরো চিন্তা ভাবনা করতে চান তখন না হয় বাকিটা বলবো ।

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটে নতুনদের আগমন বাড়ছে । কেউ এসেছে শুধু অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট থেকে ইনকাম হয় এইটা শুনেই, কেউ এসেছে কারো বিশাল ইনকাম স্ক্রীনশট দেখে, কেউ হয়তো ফ্রীল্যান্সিং করছে এবং টুকটাক এই বিষয়ে জানে, আবার অনেকে এসেছে শুধু ফেসবুকের টাইমলাইনে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট নিয়ে কারো কথা বলতে দেখে । যে যেভাবেই আসুক না কেন সবার একটাই উদ্দেশ্য থাকে, সেটা হলো ইনকাম । অনলাইন থেকে ইনকাম করতে যেটা সবচেয়ে বেশি মোটিভেট করে সেটা হলো এক খানা কম্পিউটার এবং সহজ সোশ্যাল মিডিয়া । এখন কম্পিউটার জিনিসটা যথেষ্ঠ সহজলভ্য হয়ে গেছে এইটা আমাদের কারো অজানা নয় । কেউ একজন হুট করে একটা কম্পিউটার কিনেই চলে আসলো অনলাইনে । অনলাইনে এসে সে দেখলো চারদিকে বলাবলি হচ্ছে ঘরে বসেই ইনকাম করুন হাজার হাজার টাকা । যোগ্যতা কি লাগে? কিছুই না । শুধু বাসায় থাকতে হবে একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশন । কাজ শিখিয়েই হাজার হাজার টাকা ইনকাম করিয়ে দেওয়া হবে । এইসব দেখে যে কাউরই খুশিতে হার্ট অ্যাটাক করার কথা ( কেউ করেনি এই পর্যন্ত) । টাকা ইনকাম তো একটা মজার ব্যাপার । এত কষ্ট করে পড়াশুনা করাই হচ্ছে টাকার জন্য । কম্পিউটার ঘরে থাকলেই যদি টাকা আনা যায় তাহলে তো মন্দ হয় না । ব্যাস শুরু হয় তার অনলাইন জগৎ । কেউ ভুল কারো কাছে গিয়ে ধরা খায় আবার কেউ সঠিক কারো কাছে গিয়েও ধর্য্যে ধরে রাখতে পারে না । আমার ধারনা অনলাইনে ইনকামের উদ্দেশ্য যদি আসে ১০০ জন, এর মধ্যে ২০ জন সঠিক পথে যায়, ৫০ জন ভুল পথে যায় এবং দেখা যায় স্প্যামারের খাতায় নাম লেখায় তারা । বাকি ৩০ জন ধর্য্যে হারিয়ে ফেলে ।

আপনি অ্যামাজন নিয়ে জানতে হলে বেশ কিছুদিন যাবৎ আগে পড়াশুনা করতে হবে । আপনার ওই কিছুদিন যেন নষ্ট না হয় এবং আপনি যেন এই আর্টিকেল পড়েই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আপনাকে দিয়ে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হবে কি না, সেই জন্যই এই আর্টিকেলটি লেখা ।

 

এতক্ষন তো বললাম আপনি অনলাইনে ইনকাম করার জন্য কিভাবে আসলেন । ঠিক এইভাবেই হয়তো আপনি শুনেছেন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট নামক একটা বস্তু আছে যেটা মডিফাই করলে ইনকাম করা যায় । হ্যা, কথা সঠিক । আপনি ঠিকই শুনেছেন । আপনি যদি এইটা নিয়ে বিশাল ইনকাম স্ক্রীনশট দেখে থাকেন সেই রিপোর্টও সঠিক, কিন্তু স্ক্রীনশটটা ফেইকও হতে পারে । (ব্যাপারটা নিজ দায়িত্বে বুঝে নিন )

অ্যাফিলিয়েট ব্যাপারটা প্রায় সব সার্ভিস প্রদানকারি ওয়েবসাইটেই আছে । তাহলে কেন অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটের ব্যাপারটা বার বার উঠে আসে । এর কমিশন রেট বেশি এবং অন্যান্য কন্ডিশন গুলো সহজ সেই জন্য । আরো ব্যাপার আছে সেটা আপনি অ্যামাজন নিয়ে স্টাডি করলেই ধীরে ধীরে জানতে পারবেন ।

 

যেহেতু আপনি এই লেখা পড়ছেন তাহলে ধরেই নেওয়া যায় আপনার অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটে আগ্রহ আছে । আপনিও চান অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট নিয়ে কাজ করতে । তো অ্যাফিলিয়েট শুরু করার আগে “অ্যামাজন” নিয়ে সংক্ষেপে কিছু জিনিস জেনে রাখা উচিৎ ।

 

অ্যামাজন

১৯৯৪ সালের জুলাই মাসের ৫ তারিখে অ্যামাজনের যাত্রা শুরু হয়েছিল জেফ বেজস’এর বাড়ির গ্যারেজে (বিল গেটস, স্টিভ জবস, জেফ বেজস ওদের বাড়ির গ্যারেজে মনে হয় কোন রহস্য আছে ) । শুরুর দিকে অ্যামাজনের নাম ছিল “Cadabra” যেটা আমরা এখন অ্যামাজন হিসেবে চিনি । আর এর ওয়েবসাইটের ঠিকানাও amazon.com ছিল না । ওরা অনেকগুলো ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করলেও শেষ পর্যন্ত relentless.com নির্বাচন করে । কিন্তু ব্যবহারকারীদের এইটা লিখতে কষ্ট হবে বিধায় ওরা amazon.com কেই চুড়ান্ত করে । তারপরেও relentless.com এখনও অ্যামাজন নামেই রেজিস্ট্রেশন করা আছে । কেউ relentless.com লিখে সার্চ দিলে অ্যামাজনেই চলে আসবে ।

amazon

অ্যামাজন সর্বপ্রথম তাদের বিক্রি শুরু করেছিল বই দিয়ে । এবং তাদের সর্বপ্রথম বিক্রিত পন্যটি ছিল একটি বই । নাম: Fluid Concepts & Creative Analogies: Computer Models of the Fundamental Mechanisms of Thought.

enhanced-23331-1402600891-2

অ্যামাজনের সর্বপ্রথম মার্কেটিং করেছিল ইয়াহু । ইয়াহুর সেই মার্কেটিংয়ের কারনেই অ্যামাজনের বিক্রি তখনই বহুগুন বেড়ে যায় । এখন অ্যামাজনের পন্যর বড় একটি অংশ বিক্রি হয় আমাদের মত অ্যাফিলিয়েটদের কারনে ।

অ্যামাজন ওয়েবসাইটটি কোন নরমাল কোডিং দিয়ে ক্রিয়েট করা হয়নি । অ্যামাজন তৈরি করতে C++ এবং Java ব্যাবহার করা হয়েছে ।

২০১২ তে ৪৯ মিনিটের জন্য অ্যামাজনের সার্ভার ডাউন ছিল এবং এই ৪৯ মিনিটে অ্যামাজন ৫.৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল ।

প্রায় ১.২ মিলিয়ন বর্গ ফুট জায়গা জুড়ে রয়েছে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউজ এবং এটিই অ্যামাজনের সবচেয়ে বড় ওয়্যারহাউজ । এটি প্রায় ২৮ টি ফুটবল মাঠের সমান এবং অনায়াসে একটা বড়সড় বিমানবন্দর ঢেকে দেওয়া যাবে । সাধারনত এত বড় এরিয়া নিয়ে যখন একটা ই-কমার্স সাইট ব্যাবসা চালায় তাহলে বুঝাই যায় তাদের ব্যবসা কত বিশাল । সুত্র: বিজনেসইনসাইডার

অ্যামাজনের রেভিনিউ সহ আরো ডিটেইলস জানার জন্য উইকি দেখতে পারেন ।

এখন আসি মুল কথায় । এতক্ষন ধর্য্য ধরে বিরক্তিকর কথা গুলো শুনার জন্য ধন্যবাদ । আপনার তো মাথায় ঘুরছে কখন শুরু করবেন আর কখন ইনকাম করবেন ।

এখানেই হলো আসল ব্যাপারটা সেটা হলো “ধর্য্য” । অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট থেকে ইনকাম করতে চাইলে আপনার যে গুনটা প্রথমেই থাকতে হবে সেটা হলো ধর্য্য । সেটা কতদিন? নুন্যতম ৬ মাস বা এক বছর। একটু কম বা বেশিও হতে পারে । সেটা অনেকগুলো ব্যাপারের উপর নির্ভর করে যেটা অ্যামাজন নিয়ে স্টাডি করলেই জেনে যাবেন । অন্যান্য অনলাইন ইনকাম গুলোর ক্ষেত্রে যেটা হয় সেটা হলো আপনি এইরকম ৬ মাস বা এর কম বেশি সময় নিয়ে কাজ শিখবেন এবং শিখতে শিখতে ছোট খাটো কাজ করে কিছু ইনকাম হয়তো করাও শুরু করবেন । কিন্তু অ্যামাজন ব্যাপারটা মোটেও এইরকম না । অ্যামাজনেও শুরুতে ছোট ছোট ইনকামই হয় কিন্তু সেটা একটা নিদৃষ্ট সময় শেষে । আর অ্যামাজনের সেল থেকে যে কমিশন আসে সেটা কিন্তু আমরা প্যাসিভ ইনকাম হিসেবে বিবেচনা করি । আর আপনার এই ইনকাম কিন্তু দিন দিন বাড়ার সম্ভাবনা আছে । একটা নিদৃষ্ট সময় শেষে দেখবেন কাজ না করলেও আপনার অ্যামাজনের প্রোডাক্ট সাইট থেকে সেল আসছে ।

অ্যামাজন তো বিশাল ওয়্যারহাউজ নিয়ে ভালোই আছে, এখানে আমাদের কাজ কি? এখানে আমাদের কাজ হলো বসে বসে অ্যামাজনের পন্য গুলো সেল করা । আমরা হলাম এক কথায় সেলসম্যান । (স্মার্ট সেলসম্যান)

অ্যামাজন আপনাকে বলছে যে, আপনি আমার ওয়েবসাইটে থাকা পন্য গুলো নিয়ে কথা বলুন মানুষের কাছে, এইগুলোর দোষগুন তুলে ধরে পন্যটি সেল করুন । প্রতিটা সেলের জন্য আমি আপনাকে কমিশন দেব । আপনাকে পন্য উৎপাদনও করতে হবে না, পন্য ডেলিভারিও দিতে হবে না বা পন্য বিক্রি নিয়ে অন্য কিছু করতে হবে না । শুধু বিক্রি করে দিবেন এবং কমিশন নিবেন ।

বুঝতেই পারছেন এখানে আপনার কাজ কি হবে ।

এখন কথা হলো কিভাবে শুরু করবেন? আপনাকে দিয়ে এই কাজটা হবে কি না?

অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায় অনেকভাবেই । ভিডিও মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া এবং আরো কিছু মাধ্যমে । তবে প্রাথমিক ভাবে আমাদের পছন্দ হলো একটা ওয়েবসাইট । স্বতন্ত্র একটা ওয়েবসাইট । একটা ওয়েবসাইট ওপেন করে বসলেন হুট করে ব্যাপারটা এই ভাবে নয় । আপনাকে কিছু নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে এবং অনেক গুলো ব্যাপারে ধারনা থাকতে হবে ।

আপনাকে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে সেগুলো হলো…

  • প্রোডাক্ট সিলেকশন
  • কী-ওয়ার্ড রিসার্চ
  • ডোমেইন হোস্টিং
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • সিএমএস সম্পর্কে ধারনা । যেমন ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা ইত্যাদি
  • এসইও

আর আপনার কাজ করার সুবিধার্থে লাগবে কিছু পেইড টুলস বা সফটওয়্যার…

উপরের পয়েন্ট গুলো প্রত্যেকটি কয়েক শব্দের হলেও এই গুলো ব্যাখ্যা করলে হাজার হাজার লাইন দাড়াবে ।

 

প্রোডাক্ট সিলেকশন

এখন প্রোডাক্ট সিলেকশনের ব্যাপারটা একটু বলি ।

অ্যামাজনে গেলে দেখবেন মিলিয়নস অফ প্রোডাক্ট আছে । একজনের পক্ষে সম্ভব না সব প্রোডাক্ট সেল করা । আপনিও পারবেন না । সেই জন্য প্রথমেই আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে আপনি কোন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন । আর এই কার্যক্রম গুলো নিজের ইচ্ছা মত করলেই হবে না । একটা মোবাইল দেখে ভালো লাগলো আর চিন্তা করলেন এইটা নিয়েই কাজ করা যাক । ব্যাপারটা এমন না । আপনাকে সময় নিয়ে বুঝতে হবে কিভাবে একটা প্রোডাক্ট সেল করার জন্য নির্বাচন করতে হয় ।

কী-ওয়ার্ড রিসার্চ

এরপর আছে কী-ওয়ার্ড রিসার্চ । এইটা কি?

আমরা গুগল, ইয়াহু, বিং এই সার্চ ইন্জিন গুলো সাধারনত ইউজ করি । তো গুগলের সাথেই আমরা একটু বেশি পরিচিত । আপনার ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে আপনি যা লিখেই সার্চ দেন না কেন সেটাই এক একটা কী-ওয়ার্ড ।

 

আপনি নিশ্চই ইতিমধ্যে কোন কিছু জানার জন্য গুগলে কিছু একটা লিখে সার্চ করেছেন । অথবা ইউটিউবে গিয়ে আপনি মজার ভিডিও দেখার জন্য হয়তো লিখেছেন “Funny Video” । এই যে “Funny Video” লিখেছেন এইটাই হলো কী-ওয়ার্ড । এখন প্রশ্ন হলো এখানে রিসার্চ করার কি আছে?

ধরুন আপনি একটা প্রোডাক্ট নির্বাচন করলেন অ্যামাজন থেকে । আপনার উদ্দেশ্য হলো প্রোডাক্টটা সেল করা । ওই প্রোডাক্টটা অ্যামাজনে আছে কিন্তু কারো এই প্রোডাক্ট নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই বা কেউ এইটা নিয়ে গুগলে কিছু জানতে চায় না বা এই প্রোডাক্ট কেনার জন্য কেউ খোঁজ খবর করে না তাহলে কি হবে ব্যাপারটা? আপনার প্রোডাক্ট সিলেক্ট করাটা বৃথা গেল কি না বলেন ? আপনি প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করে হাজার হাজার ওয়ার্ডের লেখা লিখলেন প্রোডাক্টটি সম্পর্কে । শেষে এসে দেখলেন আপনার কোন প্রোডাক্ট সেল হচ্ছে না । হবে কিভাবে, আপনিতো জানেনই না যে এই প্রোডাক্ট নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা আছে কি না? । তাহলে আপনার পুরো কাজটাই জলে গেল না? সেই জন্য প্রথমেই কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে হয় । কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি যে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করেছেন সেটা নিয়ে কাজ করতে পারবেন কি না?

ডোমেইন হোস্টিং

ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে কেন আপনার ধারনা থাকতে হবে সে বলছি এবার ।

ধরুন আপনার প্রোডাক্ট হলো মোবাইল । আপনি ডোমেইনের নাম দিলেন জামা-কাপড় বা কসমেটিক্স রিলেটেড কিছু । তাহলে হলো কিছু ? ব্যাপারটা কেমন অস্বাভাবিক হয়ে গেল না ? আসলে ডোমেইন এড্রেস অনেকাংশে আপনার ভিজিটরের স্যাটিসফ্যাকশনের উপর নির্ভর করে । এছাড়াও আরো অনেক ব্যাপার আছে ।

কনটেন্ট রাইটিং

আমরা একটা ওয়েবসাইট ভিজিট করি কেন? আমাদের চাওয়া অনুযায়ি ওখানে প্রচুর ইনফরমেশন দেওয়া থাকে বলেই আমরা ওই ওয়েবসাইট ভিজিট করি । তো কোন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে আসবে সে নিশ্চই মজা করার জন্য আসবে না । সে আসবে কোন ইনফরমেশন নিতে । বা কোন কিছু জানতে । তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনার দরকার হলো কন্টেন্ট । ধরুন আপনি একটা নিশ সাইট করলেন মোবাইল নিয়ে । তো ওখানে মোবাইল নিয়ে যত বেশি ইনফরমেশন আপনি দিতে পারবেন তত ভালো । এই ইনফরমেশন বা কন্টেন্ট গুলো অবশ্যই হতে হবে ইউনিক । আপনি যদি নিজে লিখতে পারেন তাহলেতো বেটার । আর যদি নিজে লিখতে না পারেন তাহলে আপনাকে রাইটার হায়ার করতে হবে । একটা সিংগেল প্রোডাক্টের জন্য মিনিমাম ৩০-৫০ টা আর্টিকেল আপনার ওয়েবসাইটে থাকা উচিৎ । আসলে একটা প্রোডাক্ট নিয়ে লিখতে গেলে এখানে কিছু রিসার্চের ব্যাপার আছে । আপনার কী-ওয়ার্ড কতবার থাকবে বা আর্টিকেলটি অ্যাট্রাকটিভ করে লিখতে হবে….. এই সমস্ত ব্যাপার বিবেচনায় রেখে আপনার আর্টিকেল লিখতে হবে । এখানে আপনাকে ইংরেজীতে দক্ষ এবং অনলাইনে প্রোডাক্ট আর্টিকেল লেখা সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে ।

সিএমএস সম্পর্কে ধারনা

এরপর আপনার সাইটের জন্য টুকটাক ডিজাইন করতে হবে । আপনি আর্টিকেল লেখালেন এবং আর্টিকেল গুলো একটু সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে একটা নিদৃষ্ট ফরমাটে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে । আপনি নিশ্চই আর্টিকেল গুলো একসাথে একই জায়গায় পোষ্ট করে দিবেন না । এখানে কিছু ডিজাইনের ব্যাপার আছে । কোনটা কোথায় যাবে, কোনটার সাথে কোন পাশে কি ফটো এড করতে হবে এই সমস্ত ব্যাপার গুলোই ডিজাইনের পর্যায়ে পড়ে । যেমন আপনার ফন্ট কেমন হবে । কোন ফন্ট কত বড় হবে । ফন্ট কালার কি হবে? হেডলাইন কেমন হবে? হেডলাইনের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকবে কি না , থাকলে কোন কালার হবে । এইগুলাই আপনার ডিজাইন । ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে আপনার কিছু ধারনা থাকলে নিজেই পারবেন এইগুলো করতে ।

আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়েই কাজ করি । তুলনামুলক ভাবে এইটা অনেক সহজ কাজ করার জন্য ।

এসইও

এসইও ৩ অক্ষরের শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি বিশাল । সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, অন্যর ব্লগে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে কমেন্ট করা, ফোরাম মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং, অন্যর ওয়েবসাইটে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক থাকা (গেস্টপোষ্ট) ইত্যাদি আরো অসংখ্য কাজ হলো এসইও । এইটা নিয়ে কথা বলে আসলে শেষ করা যাবে না ।

 

শুধু প্রোডাক্ট সিলেকশন থেকে শুরু করে এসইও পর্যন্ত নয় । আরো টুকটাক অনেক গুলো কাজ আপনাকে নিয়ম মেনে করে যেতে হবে কয়েক মাস । সেটা ৬ মাস হতে পারে আগেও বলেছি ।

আবারও বলছি শুধু উপরে উল্লেখিত কাজ গুলো নয় । আর টুকটাক অনেক গুলো কাজ আছে যেগুলো আপনাকে জানতে হবে । তবে সেগুলো খুব বেশি কঠিন কিছু নয় । শিখতে শিখতে এবং চর্চা করতে করতেই জেনে যাবেন ব্যাপার গুলো । দরকার শুধু ধৈর্য্য ।

এই সময়টা আসলে আপনার দক্ষতার উপর নির্ভর করে । তবে আপনি যত দক্ষই হন না কেন কম সময়ে কিছু হয়ে যাবে এইটা অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট থেকে চিন্তা করা উচিৎ না ।

এখন চিন্তা করে দেখেন এতক্ষন আমি যে কয়টা কাজের কথা বলেছি সেগুলো কি আপনি পারেন ? যদি না পারেন তাহলে শিখতে হবে, সহজ হিসাব । শিখার সময় না থাকলেও ধারনা থাকতে হবে যেন অন্যকে দিয়ে করানো যায় । আপনি সমস্ত কাজ গুলো যদি অন্যকে দিয়ে করাতে চান সেক্ষেত্রে সব গুলো বিষয়েই আপনার কিছুটা হলেও ধারনা থাকতে হবে । আপনি বাজারে কিছু কিনতে গেলেন কিন্তু আপনার কোন ধারনা নেই ওই প্রোডাক্ট সম্পর্কে তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন যে আপনি আসল জিনিস পেয়েছেন নাকি নকল জিনিস পেয়েছেন? আশা করি বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটা ।

আপনি চিন্তা করলেন কাজ গুলো সব আপনি নিজেই শিখে নিজেই করবেন সব । তাহলে সময় দেন এবং কষ্ট করেন । কোন কাজটা আপনি পারেন না সেটা চিন্তা করেন । যেটা পারেন না সেটা অন্যকে দিয়ে করিয়ে নিতে হবে ।

 

আর আমাকে যদি কেউ এমনিতে প্রশ্ন করেন যে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাই, আমার কত ইনভেস্ট করতে হবে?

আমি বলবো যদি নিজে কাজ না করতে চান তাহলে ১ লাখ টাকার কমে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট শুরু করা উচিৎ নয় । শুধু আর্টিকেলের জন্য বাজেট রাখতে পারেন ৪০ হাজার টাকার মত ।

 

পরিশেষে কিছু কথা বলছি । অনলাইন মার্কেটিংয়ে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট বেস্ট এর চেয়েও বেশি কিছু । আমি আপনাকে উৎসাহ করছি না এইটা নিয়ে কাজ করার জন্য । অনুৎসাহিতও করছি না । আপনি যা করেন না কেন বুঝে শুনে করবেন । প্রতিদিন মিনিমাম ৪-৫ ঘন্টা সময় দিলে বেশ ভালো ফলাফল পাবেন । আর অ্যামাজন থেকে যে ইনকাম আসে সেটাকে অবশ্যই একটা হ্যান্ডসাম ইনকাম বলা যায় । আর আপনাকে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট করতে হবে এমন না ব্যাপারটা । আপনার যেটা ভালো লাগে সেটা করবেন । অ্যামাজনে ইনকাম হয় শুনেই এখানে চলে আসলেন এমনটা করবেন না । যে কোন কাজ করেই সর্বোচ্চ শিখরে যাওয়া যায় । একজন মুচিও কিন্তু পারে অ্যাপেক্স কোম্পানির মালিক হতে। তার জন্য সেটাই সর্বোচ্চ সফলতা ।

পুরো আর্টিকেলটা আমি আরো আপডেট করবো সামনে । ভালো থাকবেন ।

ধন্যবাদ ।

About the Author tamanna

Leave a Comment: